প্রতিনিধি 11 August 2026 , 9:58:08 প্রিন্ট সংস্করণ

কাতারে গৃহহীন ও বিপথগামী বিড়ালের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা স্থানীয় প্রাণী উদ্ধারকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহত, ক্ষুধার্ত কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার প্রাণীদের বাঁচাতে তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে স্বেচ্ছাসেবকদের মতে, কেবল উদ্ধার করে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়; বরং বিড়ালের বংশবৃদ্ধি রোধ করাই এখন সময়ের দাবি।

এই সংকট নিরসনে কাতারজুড়ে এখন বন্ধ্যাকরণ বা স্টেরিলাইজেশন এবং কেনাকাটার পরিবর্তে দত্তক গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দোহার বাসিন্দা ইরিনা তিমোশেঙ্কো গত সাত বছর ধরে স্বাধীনভাবে প্রাণী উদ্ধারের কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি নিজের বাড়িতেই প্রায় ৭২টি বিড়ালের দেখাশোনা করছেন। অসুস্থ বিড়ালদের সুস্থ করে তোলা, টিকা দেওয়া ও বন্ধ্যাকরণের পর তাদের দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থা করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
বিপুল আর্থিক ও মানসিক চাপের মুখেও তিনি এই মানবিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিমোশেঙ্কো জানান, বিড়ালদের খাবারের জন্য মাসে প্রায় ১,৫০০ রিয়াল খরচ হলেও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সবচেয়ে কঠিন। গত দুই মাসে গুরুতর অসুস্থ ১৩টি বিড়ালের চিকিৎসার পেছনেই তাঁকে প্রায় ২৪,০০০ কাতারি রিয়াল খরচ করতে হয়েছে।
আরেক বাসিন্দা সাবিনা হুসেইনোভা বিপথগামী প্রাণীদের খাবার ও বন্ধ্যাকরণের জন্য মাসে প্রায় ১,০০০ রিয়াল ব্যয় করেন। তাঁর মতে, প্রাণীদের এলাকা থেকে সরিয়ে না নিয়ে বরং বন্ধ্যাকরণ করাই তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত উপায়।
বিভিন্ন প্রাণী কল্যাণ সংস্থা এই সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছে। ‘টিএনআর কাতার’ (TNR Qatar)-এর কর্মকর্তা শার্লট জানান, আশ্রয় বা দত্তক দিয়ে হাজার হাজার বিড়ালের সংকট মেটানো সম্ভব নয়। এর প্রকৃত সমাধান লুকিয়ে আছে ‘ট্র্যাপ-নিউটার-রিটার্ন’ (TNR) কর্মসূচিতে। তারা বিড়াল ও কুকুরের বাধ্যতামূলক সরকারি নিবন্ধনের দাবিও জানিয়েছেন।
‘দ্য পার্ল অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার’ সংস্থাটি জানিয়েছে, বাসা বদল বা দেশ ত্যাগের সময় পোষা প্রাণীদের পরিত্যক্ত না করা এবং দোকান থেকে না কিনে উদ্ধারকৃত বিড়াল দত্তক নেওয়াই দায়িত্বশীল মালিকানার পরিচয়। অন্যদিকে, ‘স্ট্রিটস অব স্ট্রে’ সংস্থাটি সাধারণ বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন এলাকা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি গ্রীষ্মকালে প্রাণীদের জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করেন এবং চিকিৎসার খরচে সহায়তা করেন।
উদ্ধারকারীরা এখন কাতার সরকারের কঠোর নজরদারি ও কিছু জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে টিএনআর কর্মসূচির ব্যাপক প্রসার, পোষা প্রাণীর দোকান ও ব্রিডারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মালিকদের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি জোরদার করার মাধ্যমেই কেবল কাতারে গৃহহীন প্রাণীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাতারে গৃহহীন ও বিপথগামী বিড়ালদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রতিটি উদ্ধার অভিযান যেন দীর্ঘ সংগ্রামের এক একটি কষ্টকর অধ্যায়।
বিপুল আর্থিক ও মানসিক চাপ: তিমোশেঙ্কো জানান, বিড়ালদের খাবারের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১,৫০০ রিয়াল খরচ হলেও সবচেয়ে বড় আর্থিক ধাক্কা আসে চিকিৎসা খরচে।
গত দুই মাসেই গুরুতর আহত ও সংক্রমণে ভোগা ১৩টি বিড়ালের চিকিৎসার জন্য তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২৪,০০০ কাতারি রিয়াল।
এই লক্ষ্যে কাতার জুড়ে গড়ে উঠেছে একটি নতুন আন্দোলন, যেখানে বিড়ালের বন্ধ্যাকরণ (Sterilization/Neutering) এবং কেনাকাটার পরিবর্তে দত্তক গ্রহণকে (Adoption) মূল সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাহায্যের তাগিদ: আর্থিক ও মানসিক চাপ থাকা সত্ত্বেও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
‘দ্য পার্ল অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার’ (The Pearl Animal Welfare): সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানান্তরের সময় পোষা প্রাণীদের পরিত্যক্ত না করা এবং দোকান থেকে কেনার বদলে উদ্ধারকৃত বিড়ালদের দত্তক নেওয়াই দায়িত্বশীল পোষ্য পালনের প্রধান শর্ত।
উদ্ধারকারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাতার সরকারের নজরদারি এবং অধিবাসীদের থেকে কয়েকটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন: ১.
সূত্র: গালফ বাংলা



















