প্রতিনিধি 7 September 2026 , 10:41:04 প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলনবিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জনবহুল বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে সময় দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রায় ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি মিয়ানমারে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিজের ভূমিকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত আছেন জানিয়ে জাপানের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়ার মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশেষ দূতের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। তিনি আরও যোগ করেন যে, নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ পাবে।
জবাবে বিশেষ দূত জানান, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমার সরকার এই সমস্যার সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতির হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, নিজের অবস্থান থেকে সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কেবল দ্বিপক্ষীয় নয়, বরং বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক আলোচনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ দূত এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের আগ্রহের কথা জানান। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও বাংলাদেশ আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ



















