সারাদেশ

প্রেক্ষাপট: দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন: ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

  প্রতিনিধি 9 August 2026 , 12:42:41 প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ইউএনওদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগটি একটি বড় আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে। তিনি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণ ও সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন।

মূলত খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ৮৩টি উপজেলার ইউএনওকে প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানাতেই এই সভার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। তাই ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আরও গতিশীল হবে। একইভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার আয়োজনের জন্য জাতীয় দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয় ভালো যেকোনো বিষয় বা মানুষের জন্মদিন উপলক্ষেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে। এতে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং নিষ্ঠুরতা বাড়ছে। এই প্রবণতা রোধে নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা ও প্রাণীর প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে।

সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রমের সফলতার চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়।

আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন।

বাংলাদেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ জায়গা, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু সেই উপজেলা তো আপনার দেশেরই একটা অংশ।

সেখানে যে মানুষগুলোকে দেখছেন, তারা হয়তো আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ।

এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে।

সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

সভায় উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া ৮৩ জন ইউএনওর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content