আইন-আদালত

শিক্ষিকা রনজিলা মৃত্যুর ঘটনা: আসল দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

  প্রতিনিধি 16 September 2026 , 2:14:37 প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন (৫৬) নিহতের ঘটনায় প্রকৃত দুই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. খোকন (৩৫) ও মো. রাজিব মাতুব্বর (৩৬)। অভিযানের সময় নিহতের খোয়া যাওয়া ব্যাগ, মোবাইল ফোন এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে র‌্যাব (বর্তমান এসআরবি) এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের দাবি করলেও, ডিবি পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, আগের গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নিহতের স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। এরপর থেকেই পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য-প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। অভিযানের প্রথম ধাপে মিরপুর থেকে খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার তথ্যের ভিত্তিতেই মিরপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষিকার ব্যাগ, ব্যক্তিগত কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে বিরুলিয়া থেকে মোটরসাইকেল চালক রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার কাছে ৬২২ পিস ইয়াবাও পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খোকন ও রাজিবের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। রাজিবের বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই, অস্ত্র ও দ্রুত বিচার আইনসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে খোকনের বিরুদ্ধেও মাদকের একাধিক মামলা পাওয়া গেছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে রাজধানীর অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা যাচাই করা যায়।

এর আগে ৩০ আগস্ট র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, মোশারফ হোসেন পনি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পূর্বের গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা পেশাদার অপরাধী হলেও, রনজিলা পারভিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হয়। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি, তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়া হবে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ আগস্ট সকালে। শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন তার স্বামীর সঙ্গে রিকশাযোগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন। শেরেবাংলা নগর এলাকার ১২ নম্বর গেট অতিক্রম করে খেজুর বাগানের দিকে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী খোকন ও রাজিব তাদের রিকশার পিছু নেয়। এক পর্যায়ে খোকন চলন্ত রিকশা থেকে শিক্ষিকার ব্যাগ ধরে সজোরে টান দিলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও এর আগে এ ঘটনায় তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছিল র‌্যাব (বর্তমান এসআরবি)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি ‘ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত’ একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করেছিল সংস্থাটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উদ্ধারকৃত সেই মোটরসাইকেলটিও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যাগের ভেতর তার ব্যবহৃত পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে, গত ৩০ আগস্ট বিকালে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান দাবি করেন, স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীন হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন আসামি মো।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content