আইন-আদালত

নতুন গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষোভ, তদন্তের দাবি মানবাধিকার কমিশনের ওপর

  প্রতিনিধি 29 August 2026 , 3:50:51 প্রিন্ট সংস্করণ

আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এই দিবসকে সামনে রেখে আজ শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক সেমিনারে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা তাদের দীর্ঘদিনের বেদনা ও ক্ষোভ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে মিরাজ শেখসহ প্রায় ২০টি গুম হওয়া পরিবারের সদস্য এবং গুমের শিকার হওয়ার পর ফিরে আসা দুজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও নতুন করে গুমের ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বাগেরহাটের নিখোঁজ মিরাজ শেখের স্ত্রী মুক্তা খাতুন অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন, কোস্টগার্ডের সদস্যরা তার স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় জয়মনির ঠোটা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে সাদাপোশাকে থাকা দুজন কোস্টগার্ড সদস্য মিরাজকে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় মিরাজের মোটরসাইকেলটি দোকানি আল-আমিনের কাছে রাখা হয়েছিল, যা পরে ২১ এপ্রিল রবিন পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি এসে নিয়ে যান। অথচ কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ মিরাজকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করছে। মুক্তা খাতুন তার স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আনিশা ইসলাম ইনশা জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুন তার বাবা ইসমাইল হোসেন বাতেন মিরপুর-১ থেকে নিখোঁজ হন। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়েও গুমের ঘটনা ঘটায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান। এছাড়া আমেনা আক্তার নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, ২০১২ সালের ২৪ আগস্ট তৎকালীন সরকারের আমলে র‍্যাব তার স্বামী বরিশাল ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ খানকে গুম করে, যার সন্ধান আজও পাওয়া যায়নি।

নতুন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ নিয়ে সেমিনারে তীব্র সমালোচনা হয়। অধিকারের ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি পরিচালক তাসনিম ফারহানা জানান, গত ২৭ আগস্ট সংসদে উত্থাপিত এই আইনের খসড়ায় শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনী করতে পারবে না বলে উল্লেখ থাকলেও, তা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কারণ, অন্য কোনো বাহিনীর মাধ্যমে তদন্তও পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া আইনে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবর্তে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রী-সন্তানদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনার আইনি সুযোগ দেওয়া এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।

সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম এই আইনকে ‘বস্তা পচা আইন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি গুম ও অপরাধের ছাড়পত্র দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এক বাহিনীর অপরাধের তদন্ত অন্য বাহিনী করলে তা নিরপেক্ষ হবে কীভাবে? সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি, তাহলে অভিযোগকারীর কি জেল হবে? পুলিশ বা ডিবি যে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি, সাধারণ ভুক্তভোগী পরিবার তা কীভাবে করবে? সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, মারুফ জামান এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শেষে তাঁরা স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের একান্ত সাহায্য প্রার্থনা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এহন তারা অস্বীকার করে।’ তিনি বলেন, মিরাজ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই সাত বছরেও বাবাকে পাননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাত বছরের মাহির শেখ রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুকের সঙ্গে একটি ছবি চেপে ধরে বারবার চারপাশে তাকাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেন ভিড়ের মধ্যেই খুঁজছে ছবির মানুষটিকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলোচনা সভায় ভুক্তভোগীরা কেঁদেছেন, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content