প্রতিনিধি 19 August 2026 , 10:51:15 প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৫ সালের মে মাসে পটের বিবির যাত্রা শুরু হয় অনলাইনে। শাড়ি নিয়ে কাজ শুরুর আগে ফোয়ারা ফেরদৌস বেশ কিছুটা সময় চাকরির বিরতিতে ছিলেন। বিভিন্ন পেশায় কাজ করার পর নিজের ব্যবসা নিয়ে ভাবনার এক পর্যায়ে শাড়িকেই বেছে নেন তিনি। শুরুর দিকে টাঙ্গাইল থেকে শাড়ি সংগ্রহ করে ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতেন। ছয় মাসের মধ্যেই ভালো সাড়া পাওয়ায় তিনি নিজস্ব নকশা ও রঙের সমন্বয়ে শাড়ি তৈরির কাজে মনোনিবেশ করেন। এরপর দুই বছর পর শাড়িতে স্ক্রিনপ্রিন্টের কাজও যুক্ত করেন তিনি। এভাবে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অনলাইনের দুনিয়াতেই ঘুরে বেড়াচ্ছিল পটের বিবি। পাশাপাশি বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণও অব্যাহত ছিল।

অনলাইন থেকে অফলাইনে যাওয়ার প্রাথমিক কোনো ইচ্ছা ফোয়ারার ছিল না। নিজের নকশা নিয়ে চুপচাপ কাজ করে যাওয়াটাই তিনি পছন্দ করতেন। কিন্তু এটাও মনে হলো যে ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন একটা শাড়ির গল্প ভাগ করে নেওয়া, তাঁদের বিস্তারিত জানানো বা বোঝানো যেত না অনলাইনে। তিনি অনুভব করলেন, ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর মতো একটি নির্দিষ্ট জায়গা থাকলে শাড়ি নিয়ে কথোপকথন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সহজ হবে। এই চিন্তা থেকেই তিনি দোকান দেওয়ার পরিকল্পনা করেন, যেখানে প্রদর্শনীর পাশাপাশি নতুন শাড়ির কাজও করা যাবে।
অবশেষে ২০১৯ সালের আগস্টের ২ তারিখে পটের বিবির দোকান খোলা হয় লালমাটিয়ার সি ব্লকের ১/১-বি নম্বর বাড়িতে। এখনো সেখানেই দোকানটি পরিচালিত হচ্ছে। দোকান চালুর পর শুরুর দিকে বেশ ভালো সাড়া পেলেও করোনার কারণে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে সাত-আট মাস পর আবার নতুন উদ্যমে দোকানটি খুলে দেওয়া হয়। ফোয়ারা ফেরদৌস বলেন, ‘দোকান হলেও কেনাকাটার বাইরে জায়গাটি অনেক কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথোপকথন, শাড়ি নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা, নতুন ভাবনা পাওয়া, আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হওয়া, নতুন কোনো পণ্য উপস্থাপন করা, মাঝেমধ্যে ক্রেতাদের একসঙ্গে নিয়ে আসার মতো অসংখ্য বিষয় করা যাচ্ছে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে দোকান দিয়েছিলাম, সেটা পুরোপুরি পূরণ হয়েছে।’
দোকান দেওয়ার পর পটের বিবির কাজের ক্ষেত্র অনেক বেড়েছে। শুরুতে শুধু শাড়ি নিয়ে কাজ হলেও এখন স্কার্ফ, ব্যাগ, শিশুদের পোশাক ও নোটবুকের মতো নানা পণ্য যুক্ত হয়েছে। অনলাইনে অনেক সময় এসব পণ্য আড়ালে পড়ে গেলেও অফলাইনে সেগুলো ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। তবে নতুন কোনো শাড়ি এলে এখনো প্রথমে তা অনলাইনেই তুলে ধরা হয়। বর্তমানে দেশের বাইরে থেকেও অনেকে অর্ডার করছেন। কাজের পরিসর সীমিত রেখে মান ধরে রাখার চেষ্টায় অবিচল ফোয়ারা। স্টুডিও পরিচালনা থেকে কারিগর—সব মিলিয়ে বর্তমানে পটের বিবিতে কাজ করছেন ১৫ জন।
সূত্র: প্রথম আলো



















