প্রতিনিধি 20 September 2026 , 10:55:58 প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার কোটবাড়িতে আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অপ্রতিম নামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। গ্রেফতারকৃতরা হলো সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ফাহাদ এবং কামরুল। তাদের মধ্যে তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ড্রপআউট শিক্ষার্থী।

পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়েছিল অপ্রতিম। ওইদিন বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দ নামক পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যপুরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। নিখোঁজের পর মা ড. নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানের সন্ধান চেয়ে আবেদন জানান। পরবর্তীতে শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারী পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসার তোশকের নিচ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ফাহাদ ও কামরুলের নাম প্রকাশ করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত আরও একজন, সিয়ামকে পুলিশ আটক করেছে এবং তার সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে দ্রুত বিচার নিশ্চিতে পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান ছিলেন। এ ঘটনায় শনিবার মধ্যরাতে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এখন গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে এবং এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ঘটনায় ফাহাদ এবং তার আরেক এক বন্ধু জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুহিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইফোনটি পেতে তিন জায়গায় আমরা অভিযান চালাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘এছাড়াও আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে আটক করেছি।
সূত্র: মানবজমিন



















