আন্তর্জাতিক

ইরানে দেশরক্ষায় অস্ত্র হাতে নিতে প্রস্তুত ৬ লাখ স্বেচ্ছাসেবক

  প্রতিনিধি 20 September 2026 , 4:06:16 প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে দেশ রক্ষায় অস্ত্র হাতে নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন হাজার হাজার মানুষ। ‘জানফাদায়ে ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী’ শিরোনামের এই কর্মসূচিকে দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা দিতেই সরকার এই সমাবেশের আয়োজন করেছে, যেখানে সামরিক পোশাকে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে ইরানের পতাকা দেখা যায় এবং উপস্থিত জনতা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

তেহরানের আইআরজিসি প্রধান জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে ইতিমধ্যে ৬ লাখের বেশি মানুষ নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। কেবল তেহরান নয়, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার সকালেই শুধু তেহরানের রাজপথেই তিন লাখের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল। বাসিজের নতুন প্রধান হোসেইন তাইয়েব সমাবেশের শুরুতে ঘোষণা করেন যে, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দেশের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।

মূলত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ মিলিশিয়ার পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা যোগ দিয়েছেন, তাদের খুব শীঘ্রই অ্যাসল্ট রাইফেল ব্যবহারের বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেশটির অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এদিকে, একদিকে মার্কিন নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার অভিযোগের মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী যেকোনো প্রতিকূলতায় দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমাবেশে উপস্থিত দর্শকেরা তাদের স্বাগত জানান।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content