প্রতিনিধি 17 September 2026 , 3:53:45 প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ঘোষণা করেন যে, পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এই কনস্যুলেটটি মূলত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।

গিডিয়ন সার আরও জানান, গাজা উপত্যকা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান সমন্বয় মিশনে যুক্তরাজ্যকে আর কোনোভাবেই অংশ নিতে দেওয়া হবে না। এছাড়া জেরেমি করবিনসহ বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ নেতা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পরামর্শ করেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ব্রিটিশ সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ বলে আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, এটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নগ্ন হস্তক্ষেপ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ তুলে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তাকেও তিনি ‘আপত্তিকর মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের অভিযোগ, আগামী নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই যুক্তরাজ্য এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা জানিয়েছিল, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষার লক্ষ্যেই তারা এই বসতি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের পক্ষে তারা সেপ্টেম্বরের শেষভাগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রচার চালাবে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ এ প্রসঙ্গে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর উপায়, যা বর্তমানে বসতি সম্প্রসারণের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাতিসংঘ ও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরের এই বসতিগুলোকে অবৈধ মনে করলেও ইসরায়েল বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরের কট্টরপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের অর্থায়ন করছে, যারা অবৈধ আউটপোস্ট ও খামার তৈরি করে ফিলিস্তিনিদের এলাকাছাড়া করছে। অন্যদিকে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং নেতানিয়াহু নির্বাচনী প্রচারণায় কাতারকে ‘শত্রু’ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৩ দেশের নেতারা বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সূত্র: গালফ বাংলা



















