প্রতিনিধি 6 September 2026 , 8:01:03 প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন কথার লড়াইয়ে উত্তপ্ত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে যারা একই কাতারে ছিলেন, সেই দলগুলোই এখন সরকারি ও বিরোধী শিবিরে বিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছেন। নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র পরিচালনার যে প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিলেন, তা নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা সংসদ ও রাজপথে একে অপরকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মাথায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যজোট বড় ধরনের কর্মসূচি হিসেবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ সম্পন্ন করেছে। ছয় দফা দাবি আদায়ে এই লংমার্চ থেকে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দাবি না মানলে সামনে এই ছয় দফা এক দফায় রূপ নেবে। অন্যদিকে, সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অরাজকতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দল জনদাবির চেয়ে রাজনৈতিক ইস্যুগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার কৌশল হতে পারে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, বিরোধী জোট নিজেদের একটি শক্তিশালী বিরোধী ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তিনি মনে করেন, পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে তাদের অবস্থানের মধ্যে স্ববিরোধিতা রয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং এগুলো রাজনৈতিক আলোচনারই অংশ, তাই পরিস্থিতি খুব বেশি উদ্বেগের পর্যায়ে যায়নি।
গত শনিবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, স্বৈরাচারের সময় যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থায় ছিল, তারা এখন অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও তিনি কোনো দলের নাম নেননি, তবুও রাজনৈতিক মহলে এটি জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে জামায়াতের আমীর ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ‘গুপ্ত’ প্রসঙ্গটি টেনে পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, যারা পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, তারাই প্রকৃত গুপ্ত। তিনি ঢাকার বিমানবন্দরে প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিএনপি’র সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে সরকারি দলের সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাদের এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের জন্য, কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চে ব্যবহৃত ভাষার সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দল ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশ্রাব্য শব্দ ব্যবহার করছে। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে তারা শুধু সমালোচনা করছে কিন্তু কোনো গঠনমূলক প্রস্তাব দিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনও একই সুরে বলেন, সংসদ কার্যকর থাকা অবস্থায় রাজপথে লংমার্চ করা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারাও সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। চট্টগ্রামের সমাবেশে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের সমস্যার সমাধান সংসদ থেকে না আসলে তারা পরবর্তী অধিবেশনে অংশ নেওয়া নিয়ে পুনর্বিবেচনা করবেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে সংসদ ও রাজপথ একাকার হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও জনমুখী কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া দলগুলো এখন বিভিন্ন ইস্যুতে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৬ দফা দাবি সামনে রেখে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিরোধী দলের আড়ালে পতিত শক্তি সক্রিয় হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নও করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ, গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দলগুলো আলোচনা করেই অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে মাঠের রাজনীনিতে ফের হানাহানি ও অতীতের দৃশ্য ফিরে আসারও শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবার অযৌক্তিক কারণেও অনেক কিছু করছে।
সূত্র: মানবজমিন



















