জাতীয়

বাংলাদেশ-সৌদি সরাসরি ফ্লাইট বাড়ছে ৮৪টি, কার্যকর হবে ৫ মার্চ থেকে

  প্রতিনিধি 13 August 2026 , 4:11:01 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। নতুন এই বিমান চলাচল চুক্তির আওতায় সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৯টি থেকে বাড়িয়ে ৮৪টি করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসিএ) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফিরে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক রাজধানীর বেবিচক সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, নতুন এই ফ্লাইট সূচি আগামী ৫ মার্চ থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যানের মতে, ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে ভ্রমণের দীর্ঘদিনের চাপ অনেকাংশে কমে আসবে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন এবং ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে হজ কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজতর হবে।

নতুন এই ব্যবস্থার ফলে বর্তমানে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরব যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যাত্রী সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা পাবেন। বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ বাংলাদেশি যাত্রী পরোক্ষ রুটে সৌদি আরব যাতায়াত করেন। সরাসরি ফ্লাইট বাড়লে তাদের ভ্রমণের সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশ ‘ফিফথ ফ্রিডম’ ট্রাফিক অধিকার পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। এর আওতায় স্পেনের জারাগোজা ও জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে কার্গো পাঠানো সম্ভব হবে। একইভাবে সৌদি আরবও চীনের দু’টি গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের অধিকার লাভ করেছে।

মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি বাংলাদেশের লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার পাশাপাশি রপ্তানি অর্থনীতিকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীচাপের বিষয়ে তিনি জানান, বিমানবন্দরের বার্ষিক ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ হলেও বর্তমানে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করছেন। এই চাপ কমাতে তিনি এয়ারলাইনসগুলোকে চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো ব্যবহারের আহ্বান জানান। এছাড়া আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে টার্মিনাল-১ ও ২-কে হজ কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি বিমানবন্দরে গোলাবারুদ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। এছাড়া খোলা জায়গায় কার্গো রাখার কারণে বৃষ্টিতে পণ্য ভিজে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।

পণ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধান এবং আমদানিকারকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য ইতোমধ্যে ১১টি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content