প্রতিনিধি 11 August 2026 , 1:02:19 প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরবের মরুভূমিতে এক শতাব্দী পর বিলুপ্তপ্রায় ‘অনাগার’ শাবকের জন্ম হয়েছে। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভের ‘রিওয়াইল্ড অ্যারাবিয়া’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের জুনে পুরুষ শাবকটির জন্ম হয়। অনাগার শাবকদের প্রথম বছরে বেঁচে থাকার হার মাত্র ৫০ শতাংশ হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই সময়কাল পার না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। বর্তমানে রিজার্ভের আরও দুটি অনাগার গর্ভবতী এবং আগামী শীতে তাদের সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ পরিকল্পনা। ২০২৪ সালের এপ্রিলে জর্ডানের শওমারি রিজার্ভ থেকে ৯৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাঁচটি স্ত্রী ও দুটি পুরুষ অনাগার সৌদিতে আনা হয়েছিল। ঘণ্টায় ৬৪ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে সক্ষম এই প্রাণীটি প্রাচীন আরবের ৮০টিরও বেশি কবিতায় গতি ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে সমাদৃত।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬০০টিরও কম পারস্য অনাগার টিকে রয়েছে। আইইউসিএন ২০২৫ সালে এদের ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সতর্ক করেছে যে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৯০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের এই উদ্যোগকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিজার্ভের সিইও অ্যান্ড্রু জালুমিস জানান, তাদের লক্ষ্যভিত্তিক ২৩টি প্রজাতির মধ্যে ১৪টি ইতোমধ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং ৬টি সফলভাবে বংশবৃদ্ধি করেছে। আগামী ২৫ বছরে চিতাবাঘ, চিতা ও সিংহের মতো শিকারি প্রাণী ফিরিয়ে এনে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলাই সৌদি আরবের মূল লক্ষ্য।
অনাগার শাবকদের প্রথম বছরে বেঁচে থাকার হার মাত্র ৫০ শতাংশ হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রথম ১২ মাস অতিক্রম না করা পর্যন্ত খবরটি গোপন রাখা হয়েছিল।
সূত্র: গালফ বাংলা



















