প্রতিনিধি 29 August 2026 , 5:15:04 প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি যুগান্তকারী তেল চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় থাকা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। ট্রাম্প এই সমঝোতাকে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেলচুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তেল মজুত দ্বিগুণেরও বেশি হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম কমে আসবে, যা আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে। তিনি বলেন, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির একটি বড় সাফল্য, যা গোলার্ধের ভেতরেই স্থিতিশীল তেল সরবরাহ নিশ্চিত করবে। রুবিও আরও দাবি করেন, এই বিনিয়োগ ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আনবে এবং হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তবে এই বিনিয়োগ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলা মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দেশটি ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। মাদুরোর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজকে মার্কিন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলার শর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা প্রায় এক ডজন উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছে। এসব ক্ষেত্রে ৯ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এই চুক্তি দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন গত জুলাই মাসে জানায়, তারা অপরিশোধিত তেলের দৈনিক উৎপাদন ২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত করেছে এবং ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ তা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলার ভঙ্গুর অবকাঠামো এবং অতীতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ইতিহাসের কারণে অন্যান্য মার্কিন কোম্পানিগুলো এখনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার পর থেকে ভেনেজুয়েলা সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র চাপ ও কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে শর্ত ছিল, তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছার কথা কখনোই গোপন করেননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্প লেখেন, ‘এ লেনদেন ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এরই মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে!’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ নীতি আমাদের গোলার্ধের ভেতরেই স্থিতিশীল তেল মজুত ও কম দামে তেল পাওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ভেতর গ্যাসের দাম কমিয়ে আনছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভেনেজুয়েলা আসলে কে চালাচ্ছে—ট্রাম্প নাকি দেলসির প্রশাসন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস এ তথ্য প্রকাশ করে।
সূত্র: প্রথম আলো



















