সারাদেশ

চাকরিচ্যুত হলেন ইকবাল হোসাইন ও বিপ্লব কুমার সরকারসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তা

  প্রতিনিধি 12 August 2026 , 12:34:26 প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’—এমন বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আলোচিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে তাঁর পাশাপাশি আরও পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাকে একই শাস্তি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কর্মকর্তারা বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, এই অনুপস্থিতিকে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এছাড়া কাজী আশরাফুল আজীম ও রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেদিন থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, সেদিন থেকেই তাঁদের চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিভাগীয় মামলায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাঁকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হলো। এর আগে গত বছরের ২৩ জুলাই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের উপস্থিতিতে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে তাঁকে পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা যায়। তবে প্রজ্ঞাপনে এই ভিডিওর বিষয়টিকে নয়, বরং কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগকেই বরখাস্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বদলির আদেশের পর তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। একইভাবে, সাময়িক বরখাস্ত থাকা সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ৬ আগস্ট থেকে এবং সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ২২ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা ফেরেননি।

কক্সবাজারের ৮ এপিবিএনের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ২০২৪ সালের ২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়েছিলেন। ছুটি শেষে ৩১ ডিসেম্বর কর্মস্থলে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি আর ফেরেননি। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তারিখ থেকেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএমপির সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে যোগদানের উদ্দেশ্যে দায়িত্ব ছাড়েন। পরবর্তীতে তাঁকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি। ফলে ১১ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগ তদন্ত করে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ছাত্র-জনতা হতাহতের ঘটনা ঘটছিল।

সেই কথোপকথনের ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য নথি পর্যালোচনার পর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার।

এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’

ভিডিওতে তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলমকেও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

তাঁদের সামনে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ কথা বলছিলেন ইকবাল।

কাজী আশরাফুল আজীম ২০২৪ সালের ৪ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ছিলেন।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content