প্রতিনিধি 11 August 2026 , 4:52:48 প্রিন্ট সংস্করণ

এই যেমন ধরো কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার কথা!

১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে ক্যামেরুনের এই মিডফিল্ডারের নাম কজনই–বা জানতেন!
লঁসে কাটানো চার বছরে তিনি ক্লাবটিকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে তাদের প্রথম লিগ শিরোপাও জিতিয়েছিলেন।
কে কোথায় একটা দারুণ গোল করল, কে কেমন ট্যাকল করল, কে ভালো গোল সেভ করল—এসব নিয়ে চলে হিসাব–নিকাশ।
আর সেই পারফরম্যান্সের জাদুতে রাতারাতি বদলে যায় অনেক খেলোয়াড়ের জীবন।
চলো, আজ এমন কয়েকজন তারকার গল্প শোনা যাক, যাঁদের ক্যারিয়ারের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছিল বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স।
সেই বিশ্বকাপে ক্যামেরুন দল হিসেবে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই ফো ঠিকই আলো ছড়িয়েছিলেন।
তবে ২০০৩ সালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে কনফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে মাঠে লুটিয়ে পড়ে তাঁর সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা ফুটবল বিশ্ব আজও ভুলতে পারেনি।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে হঠাৎ মাঠের মাঝখানে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান তিনি।
দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।
পরে জানা যায়, তাঁর হৃদ্যন্ত্রে সমস্যা হয়েছিল।
হৃদ্যন্ত্রের পেশি অস্বাভাবিকভাবে পুরু হয়ে যাওয়ার একটি রোগ এটি।
২০০২ সালে বিশ্বকাপের আসর বসেছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে।
২৫ বছর বয়সী গিলবার্তো সিলভা তখন খেলেন ব্রাজিলের অ্যাটলেটিকো মিনেইরোতে।
ব্রাজিলের অধিনায়ক এমারসন ইনজুরিতে না পড়লে হয়তো গিলবার্তোর প্রথম একাদশেই জায়গা হতো না!
কিন্তু সুযোগ পেয়ে সেটার কী দারুণ সদ্ব্যবহারটাই না তিনি করলেন।
লুইজ ফেলিপে স্কলারির দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি।
শেষে বাড়ি ফিরলেন বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়ে।
প্রায় ৪৫ লাখ পাউন্ড খরচ করে দ্য ইনভিজিবল ওয়ালখ্যাত এই মিডফিল্ডারকে দলে টানে তারা।
আর্সেনালের সেই বিখ্যাত ২০০৩-০৪ মৌসুমের অপরাজিত দলের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি।
২০০৬ বিশ্বকাপে আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা জানান দিলেন আর্জেন্টিনার এই লড়াকু মিডফিল্ডার।
তাঁর কাঁধে ভর করেই আর্জেন্টিনা সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল।
ব্রাজিলের করিন্থিয়ান্সে খেলা এই তরুণের ওপর নজর পড়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর।
মজার ব্যাপার হলো মাচেরানো নিজে চেয়েছিলেন করিন্থিয়ান্সেই থেকে যেতে, যাতে ক্লাবটিকে অবনমনের হাত থেকে বাঁচাতে পারেন!
কিন্তু ইউরোপের ডাক কি আর সহজে ফেরানো যায়?
সেখানে বছরখানেক কাটিয়েই পাড়ি জমান লিভারপুলে, আর তারপর ২০১০ সালে সোজা বার্সেলোনায়।
সেখানে তিনি দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ আর পাঁচটি লা লিগাসহ সম্ভাব্য সবকিছুই জিতেছেন।
২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানি তৃতীয় হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পুরো বিশ্বের চোখ কপালে তুলে দিয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ প্লে-মেকার।
মেসুত ওজিল প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, তাঁর বাঁ পায়ে নিখাদ জাদু আছে।
প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে ওজিলকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিয়ে আসে তারা।
সেখানে তিন বছর জাদু দেখিয়ে কোপা দেল রে, লা লিগা আর স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতে ২০১৩ সালে তৎকালীন রেকর্ড ৪ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ডে তিনি যোগ দেন আর্সেনালে।
২০১৪ বিশ্বকাপের কথা উঠলেই সবার আগে চোখের সামনে ভাসে কলম্বিয়ার সেই ছেলেটার কথা।
উরুগুয়ের বিপক্ষে বুক দিয়ে বল নামিয়ে তাঁর সেই আইকনিক ভলি গোলটি ফিফার ওয়েবসাইটে ৪০ লাখের বেশি মানুষের ভোটে টুর্নামেন্টের সেরা গোল নির্বাচিত হয় এবং পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জেতেন তিনি।
এমন রত্নকে রিয়াল মাদ্রিদ হাতছাড়া করবে কেন?
টুর্নামেন্ট শেষ হতেই মোনাকো থেকে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো খরচ করে তাঁকে উড়িয়ে আনে লস ব্লাঙ্কোসরা।
গ্রুপ পর্বে স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দে যখন তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট পেল, তখন থেকেই ভোজিনিয়া রীতিমতো কাল্ট হিরো।
নকআউটে উঠে আর্জেন্টিনাকেও তিনি অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার ৫০ হাজার থেকে লাফিয়ে ৩ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে!
আর এবার চিলির ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল কোলো-কোলোতে যোগ দিয়ে তিনি সেটা প্রমাণও করে দিলেন।
আরও যাঁরা বিশ্বকাপ খেলেই বিশাল অঙ্কে বিক্রি হয়েছিলেন
বিশ্বকাপের মঞ্চে জাদু দেখিয়ে রাতারাতি দল পাল্টানোর তালিকায় আরও কিছু দারুণ নাম আছে।
গেয়র্গি হাজি (১৯৯৪): রোমানিয়ার এই খেলোয়াড় বিশ্বকাপ মাতিয়ে ইতালির ব্রেসিয়া থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেন প্রায় ৩০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে।
সূত্র: প্রথম আলো



















