জাতীয়

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  প্রতিনিধি 20 September 2026 , 3:35:41 প্রিন্ট সংস্করণ

নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনা দ্রুত শেষ করে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি অংশ নেয়, একটি দল তাদের মতামত লিখিতভাবে জানিয়েছে এবং একটি দলের প্রতিনিধি অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি। সব মিলিয়ে ১৭টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সনদ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ও বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সনদে স্বাক্ষর করেনি এমন দলগুলোও যদি আলোচনায় অংশ নিতে চায়, তবে তাদের জন্য সেই সুযোগ অবারিত থাকবে। নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত যে কোনো রাজনৈতিক দল লিখিত প্রস্তাব দিলে তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

উচ্চকক্ষ গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে কমিটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কেউ জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া আসনের অনুপাতে, আবার কেউ মোট ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া যে কোনো যৌক্তিক পরিপূরক প্রস্তাবও বিবেচনায় রাখা হবে। তবে পুরনো সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো নতুন করে আলোচনায় আনলে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে—এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার জুলাই সনদের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দলগুলোর নোট অব ডিসেন্টগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো দল যদি নির্দিষ্ট বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে এবং ভবিষ্যতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তাদের ইশতেহারে তা অন্তর্ভুক্ত করে, তবে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।

কাজের গতি বাড়াতে কমিটি প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারবিভাগ, জনপ্রশাসন ও পুলিশ সংস্কারের মতো কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে কিছু পদক্ষেপ সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এবং কিছু আইন ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে বিশেষ কমিটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈঠকে তারা এসব বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উচ্চকক্ষ গঠনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content