প্রতিনিধি 24 August 2026 , 12:47:21 প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে তাদের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) ও ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল। এক পর্যায়ে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠে তাদের দেখে ফেললে এবং বকাঝকা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, মাদক সেবনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়েই তারা শিক্ষককে হত্যার পরিকল্পনা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা এবং পরে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এগিয়ে এলে তাদেরও একইভাবে হত্যা করা হয়। সবশেষে ১২ বছরের শিশু আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়, কারণ সে আসামিদের চিনত এবং ভবিষ্যতে ঘটনাটি ফাঁস করে দিতে পারত বলে তাদের আশঙ্কা ছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ওই বাসার ওয়াশরুমে গোসল করে এবং আবারও ইয়াবা সেবন করে। এরপর তারা বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে গহনা লুট করে। সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানে কাজ করায় সে আগুন দিয়ে গলিয়ে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা যাচাই করে নেয়। পুলিশের দাবি, অপরাধের সময় তারা ডাইনিংয়ে বসে বয়ামে রাখা খেজুর খায় এবং মাদকের প্রভাব কমাতে ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খায়। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় যখন লোকজন মসজিদে ব্যস্ত ছিল, তখন তারা পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিন বিকেল ৫টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশের ভাষ্য, প্রিয়ম তাদের চিনত এবং ভবিষ্যতে ঘটনা জানিয়ে দিতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ



















