জাতীয়

রাজধানীর বাজারে মাছ-মাংস ও ডিমের চড়া দাম: দিশেহারা সাধারণ ক্রেতা

  প্রতিনিধি 15 August 2026 , 2:56:38 প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডিম, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে সবজি—সবকিছুর দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাবার কেনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে পণ্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতিতে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেকেরই এখন নাভিশ্বাস অবস্থা।

খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এই একই ডিম কিছুদিন আগে ১৩০-১৪০ টাকা ছিল এবং এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পাঙাশ ২৩০ ও তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মানভেদে চিংড়ি ৮০০-৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, আকারভেদে রুই মাছ ৩০০-৫০০ টাকা, ট্যাংরা মাছ ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, বাইন ৬০০-৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও আগুন লেগেছে। কাঁচা মরিচ ১৪০-১৫০ টাকা, বেগুন ১০০-১২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঝিঙা ৮০-৮৫ টাকা, পটল ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম শুনলেই এখন অবাক হতে হয় বলে মন্তব্য করেন নয়াবাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাকিব হাসান। তিনি জানান, মাছ-মাংসের দামও অনেক বেড়েছে, যা বাজেটের সঙ্গে মিলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাওরান বাজারে আসা মো. হাকিম বলেন, মনে হচ্ছে বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার বাজারের প্রতি একবারেই নজর দিচ্ছে না। বন্যা ও বৃষ্টির অজুহাতে ডিমের দাম বাড়িয়ে অসহনীয় করা হয়েছে। বিক্রেতারা একজোট হয়ে একই দামে পণ্য বিক্রি করছে, কিন্তু যৌক্তিক বা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে কিনা তার কোনো নজরদারি নেই। অন্যদিকে ডিম বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম জানান, আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় তাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, যেখানে তাদের লাভ খুবই সীমিত।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, বাজারে ডিমের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকার খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিভিন্ন খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারদরে।

নিত্যপণ্যের এই লাগামহীন দামের ফলে সাধারণ ক্রেতারা দিশেহারা। আগে যে টাকায় ব্যাগ ভরে বাজার করা যেত, এখন সেই টাকায় অল্প কিছু পণ্য কেনা যাচ্ছে। আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে এই অস্বস্তি আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

একাধিক সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে।

কিছু সবজির কেজি ৮০ টাকার আশপাশে।

তবে আমরা প্রতি ডজন ডিম বিক্রি করে ৪ থেকে ৬ টাকা লাভ করি।

কারণ খরচ তুলেই আমাদেরও বিক্রি করতে হয়।

এদিকে খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ কিছুটা কমেছে।

একেকটা সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে।

পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে গিয়ে বাজেটের সঙ্গে কোনোভাবেই মিলাতে পারছি না।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content