আইন-আদালত

এমপি নজরুল ও তার স্ত্রীর রিমান্ড মঞ্জুর

  প্রতিনিধি 22 September 2026 , 1:19:33 প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদ ভবনের ন্যাম ফ্ল্যাটে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে সংসদ সদস্য নজরুল এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পরপরই তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে মরহুমের বাবার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে দ্বিতীয় আসামি এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই সংসদ সদস্য ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন সময় মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম তার বাবার কাছে ফোনে এই নির্যাতনের কথা নিয়মিত জানাতেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার অভিযুক্ত নজরুল ও মাকছুদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী মৃত্যুর আগে উদ্ধার হওয়া সুসাইড নোট এবং পারিবারিক বিরোধের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ড শেষে গাড়িতে ওঠার সময় সংসদ সদস্য নজরুল তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই সময় তিনি বাসায় ছিলেন না এবং এটি একটি আত্মহননের ঘটনা।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাঁচটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা চিরকুটগুলোতে সম্পর্কের টানাপোড়েন, অবিশ্বাস এবং নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের ইঙ্গিত ফুটে উঠেছে। এছাড়া জাতীয় সংসদের প্যাডে আরও দুটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটগুলোতে লেখা হয়েছে, ‘ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেয়ার বিষয় নয়’ এবং ‘আমি হেরেছি তুমি জিতেছো’। পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান।

সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরিয়মের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুর ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় পরিবার। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, তার শ্যালক ওবায়দুরই এই পুরো পরিস্থিতির মূল পরিকল্পনাকারী। তার মাধ্যমেই মরিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলামের পরিচয় এবং পরবর্তীতে বিয়ে হয়। মাসুম বিল্লাহর দাবি, ওবায়দুর নিয়মিত মরিয়মকে কোচিংয়ের নাম করে সংসদ সদস্যের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত এবং বিয়ের জন্য মরিয়মকে বাধ্য করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই নির্যাতন থেকেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওর জন্যই আমি এমপি’র সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমপি’র সঙ্গে বিয়ে না হলে আজ এতকিছু হতো না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মেয়ের লাশ নিতে এসে অশ্রুশিক্ত হয়ে এসব কথা বলছিলেন নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয় গাজী নজরুল ইসলামকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম স্ত্রী মাকছুদা দ্বিতীয় আসামি ও নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর ৩ নম্বর আসামি।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content