জাতীয়

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের প্রতিবাদে সংসদে জামায়াতের ওয়াকআউট

  প্রতিনিধি 7 September 2026 , 12:17:12 প্রিন্ট সংস্করণ

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উত্থাপিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন বিল আনার প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে প্রধান বিরোধীদল জামায়াত। বিল দুটিকে দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন দলটির সংসদীয় দলের নেতারা। রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬ নিয়ে আলোচনার সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আইনমন্ত্রীকে ফ্লোর দিলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কথা বলার অনুমতি চেয়ে এই প্রতিবাদ জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিল দুটির বিষয়ে দলের পূর্বনির্ধারিত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মানবাধিকার সংক্রান্ত বিলে আইনের দ্বৈতপ্রয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং কমিশনকে প্রয়োজনীয় ইউনিফর্ম অথরিটি বা একক ক্ষমতা প্রদান করা হয়নি। তার মতে, প্রস্তাবিত আইনটি মানবাধিকার সুরক্ষার চেয়ে বরং বিভিন্ন বাহিনীর জন্য সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

মানবাধিকার কমিশন বিলের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ কোনো নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু কোনো বাহিনী যদি একই অপরাধ করে, তবে তাদের আগে নোটিশ দিয়ে জবাব চাওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। প্রথমবার জবাব না দিলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বিলে স্পষ্ট নয়। আবার সন্তোষজনক জবাব না পেলে কমিশন দ্বিতীয়বার সুযোগ দেবে, যা আইনের চোখে বৈষম্যমূলক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকের জন্য আইনের প্রয়োগ কেন ভিন্ন হবে? একই অপরাধে একজনের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত আর অন্যজনের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি করা বৈষম্যমূলক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সবশেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এসব আইন দুর্বল ফর্মে উপস্থাপন করছে, যার অংশীদার হতে চায় না তার দল। এই বিল পাসের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়ে তিনি সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে তিনি পুনরায় নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন এবং আলোচনায় অংশ না নিয়ে ওয়াকআউট সম্পন্ন করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এজন্য আমরা এই আইনের পাস করায় অংশীদার হবো না।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content