জাতীয়

জাতিসংঘ সফরে সানফ্রান্সিসকো যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  প্রতিনিধি 17 September 2026 , 11:35:17 প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে এবারের সফরে কিছুটা ভিন্নতা আনছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ব্যয় সাশ্রয় এবং দেশের বাইরে দীর্ঘসময় অবস্থান না করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচিতে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনায় জাতিসংঘের কার্যক্রম শেষে তার ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান সিদ্ধান্তে সেই সফর বাতিল করা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর মূলত নিউইয়র্ককেন্দ্রিক হচ্ছে।

চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে তিনি অংশ নেবেন। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার যোগদানের সূচি রয়েছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হিসেবে থাকছেন ফার্স্টলেডি জুবাইদা রহমান। সানফ্রান্সিসকোর সফর বাতিল হওয়ায় সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে সাক্ষাৎ বা প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সাথে বৈঠকের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিগুলো আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন।

এবারের জাতিসংঘ সফরকে বাংলাদেশের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর কারণ প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক—পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান—সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির একই সাথে উপস্থিতি এক ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি করেছে।

সফরের বহর নিয়েও এবার বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সরকার। বিগত বছরগুলোতে জাতিসংঘ সফরে বিশাল বহর নিয়ে যাওয়ার নজির থাকলেও, এবার তা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হচ্ছে। সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ জনের নিচে রাখার পরিকল্পনা চলছে। বিগত সময়ে ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে ১৮০ জন এবং ২০১৯ সালে ২৯২ জন সফরসঙ্গী নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন। এমনকি ২০২৪ সালে ৫৭ থেকে ৮০ জনের মতো সফরসঙ্গী থাকলেও এবার তা সীমিত রাখা হচ্ছে। মূলত সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য অপরিহার্য ব্যক্তিদেরই কেবল এই বহরে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নিজের সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও ভিশন বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা তার ভাষণে গুরুত্ব পাবে। একই সাথে বিশ্বশান্তি, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সামনে আনবেন তিনি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতার আহ্বান জানানো হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ভাষ্যমতে, অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো দেশ ছাড়ছেন জাতীয়তাবাদী সরকার প্রধান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটন ডিসিতে কিছু কর্মসূচি থাকলেও সফরের প্রধান আয়োজন থাকবে জাতিসংঘকে ঘিরেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৩ সেপ্টেম্বরের নৈশভোজেও থাকছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের জন্য এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সফরসূচি সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এসব কর্মসূচি আপাতত বাদ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এতে আয়োজক হিসেবে থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের তুলনায় এবারের বহর ছোট: শুধু কর্মসূচিই নয়, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর বহরও ছোট করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content