সারাদেশ

ন্যাটোর আদলে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’: যোগদানের বিষয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশ?

  প্রতিনিধি 27 August 2026 , 12:17:20 প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে সম্প্রতি গঠিত হয়েছে নতুন সামরিক জোট ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে তৈরি এই চুক্তিতে একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে সৃষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই জোট গঠন করা হয়েছে। এই জোটে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে যদি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তবে সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। সরকার এই প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, মূলত সৌদি আরবই ঢাকাকে এই জোটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যদিও আমন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট সময়কাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই জোটে ভবিষ্যতে আরও দেশের যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই জোটে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক পরীক্ষার কারণ হতে পারে। বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়ার মতে, কোনো সামরিক জোটে আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশ এবং চীন, ভারত, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান সতর্ক করে বলেছেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট সামরিক শিবিরে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তিনি আরও বলেন, এই জোটে যোগ দিলে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ অসন্তুষ্ট হতে পারে, যদিও সেটিই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত নয়।

বর্তমান সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয় বিদ্যমান। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে পুশ-ইন এবং হাসিনাকে ফেরত পাওয়ার বিষয়ে ঢাকার অনুরোধ নিয়ে দুদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকারপ্রধান ভারত সফর করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ আগেই স্পষ্ট করেছে যে, ভারত সফরের জন্য একটি ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ প্রয়োজন। এদিকে, মক্কা চুক্তির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।

বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরগুলোকে এড়িয়ে চলে সব পক্ষের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। এখন কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে সেই পররাষ্ট্রনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। কারণ, একবার কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশ আসলে কোন পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেই প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, সম্পর্কগুলো হয়তো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এমন পদক্ষেপে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক, বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি মাসে সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ এই তিন দেশ চুক্তিটিতে সই করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কর্মরত লাখো শ্রমিকের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় একটি উৎস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও উভয় দেশই আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর ঢাকা এ ঘটনার সমালোচনা করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সেটি বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত নয়।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content