প্রতিনিধি 14 August 2026 , 1:45:22 প্রিন্ট সংস্করণ

সাগর উত্তাল থাকায় সামিট এলএনজি টার্মিনালে থাকা কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে টার্মিনালে থাকা কার্গোটিও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও পরবর্তীতে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ কমে গেছে, যা আগে থেকেই চলমান গ্যাস সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এর প্রভাব এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে পড়তে শুরু করেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে চরম ভোগান্তি বাড়ছে। অনেক এলাকায় দিনের বড় একটি সময় চুলা জ্বলছে না, আবার কোথাও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে স্বাভাবিক রান্না সম্ভব হচ্ছে না।
শুধু আবাসিক গ্রাহক নয়, গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে শিল্প-কারখানাতেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে। এদিকে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বর্তমানে পিক আওয়ারে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি বাড়লে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি রান্না ও শিল্প উৎপাদনে ভোগান্তি—এই দুই সংকটে পড়তে পারেন গ্রাহকেরা। সামিটের এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতি চাপে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ



















