মতামত

মাদকাসক্তি ও অপরাধের বিস্তার রোধে প্রয়োজন কঠোর ও সমন্বিত উদ্যোগ

  প্রতিনিধি 8 September 2026 , 3:19:42 প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার সাভারে আমিনবাজারে নিজ ছেলের পোশাক কারখানায় এক প্রবীণ ব্যক্তিকে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা আলতাব হোসেন। শনিবার রাতের এই ঘটনায় ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত এবং আমিনবাজারের ওই এলাকায় তারা নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসাত। পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রবীণ ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়েই আলতাব হোসেন হামলার শিকার হন। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা ও নাগরিক নিরাপত্তাহীনতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৮৪ লাখের বেশি মানুষ মাদকাসক্ত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নেশার চাহিদা মেটাতে বছরে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই বিপুল অর্থের জোগান দিতে গিয়ে মাদকসেবীরা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর ও লক্ষ্মীপুরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনেও মাদকাসক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দেশে খুন, ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে মাদকের সহজলভ্যতা একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাদকের বিস্তার এখন কেবল নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, গাজীপুর, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট—এই আটটি মহানগরী এখন মাদকের বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। দেশের গুরুতর মাদক মামলার ২৯ শতাংশই এই আট শহরে নথিভুক্ত। এছাড়া সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মাদকের মামলার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, গত পাঁচ মাসে কক্সবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসা ছয়টি বড় অভিযানে ২৭ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। মিয়ানমার ও ভারত সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও আইসের মতো ভয়ংকর মাদক বানের স্রোতের মতো দেশে প্রবেশ করছে, যা গ্রাম-মফস্‌সলের কিশোর-তরুণদের কাছেও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারিতে যে শিথিলতা দেখা দিয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাদকের মামলায় দুর্বল অভিযোগপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবের কারণে বিচার ও সাজার হারও আশঙ্কাজনকভাবে কম। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি মাদক নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের ওপরও হামলা করার সাহস পায়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

মাদক নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান পরিকল্পনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের উৎসমুখ বন্ধ করতে সীমান্ত থেকে মহানগর পর্যন্ত গড়ে ওঠা পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে হবে। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা না গেলে সাভার, রংপুর বা লক্ষ্মীপুরের মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মাদক নির্মূলে এখনই সমন্বিত ও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে ছেলের পোশাক কারখানায় ঢুকে যেভাবে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেটা শুধু উদ্বেগজনক ঘটনাই নয়; নাগরিক নিরাপত্তাহীনতারও বড় দৃষ্টান্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমত, অপরাধীদের হাতে পুলিশ সদস্যই যখন নিরাপদ নন, তখন সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যে জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ‘মাদকাসক্ত’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনা দুটি গুরুতর প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অপরাধ বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দেশে সাম্প্রতিক কালে খুন, ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে মাদকের অবাধ বিস্তারের বিষয়টি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে লক্ষ্মীপুরে এক পরিবারের চারজনকে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীও মাদকাসক্ত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content