জাতীয়

শিক্ষকদের বকেয়া ভাতা পরিশোধে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ: শিক্ষামন্ত্রী

  প্রতিনিধি 15 August 2026 , 10:41:58 প্রিন্ট সংস্করণ

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজ আমরা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা অশ্রু মুছতে কাজ শুরু করেছি। তিনি জানান, এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের জন্য ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে সারা দেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে তাদের অংশভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অতীতে এই খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আটটি ব্যাংকে রাখা হয়েছিল, যেখান থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে সরকারি ব্যাংকে থাকা অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ড. মিলন বলেন, শিক্ষকদের জন্য বর্তমানে ৮৮ হাজার কোটি টাকার বন্ড সম্পদ রয়েছে। এই আয়ের মাধ্যমে ১ লাখ ২৩ হাজার সুবিধাভোগীর অবসর ও কল্যাণ ভাতার বকেয়া অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী দিনে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের অবদানের কথা উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, সারা জীবন শিক্ষা দিয়ে অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের কেবল একটি ফেয়ারওয়েল বা সামান্য উপহার দিয়ে বিদায় জানানো সম্মানজনক নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ১৪ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ৮৯ কোটি টাকা দিয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের যাত্রা শুরু করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনিই প্রথম বেসরকারি শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ বেতন প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদানের সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, কারিগরি শিক্ষাসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতার সর্বোচ্চ সীমা ৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি পাওনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন থাকলেও, সরকার স্বচ্ছতার সাথে সব বকেয়া পরিশোধের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

পরিশেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের যথাযথ সম্মান ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী দিনে শিক্ষকদের কল্যাণে এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এই দিন আমাদের দেশমাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আর আজকে এই দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়েছেন।’

এই দিনটি এমন একটি দিন, যেদিন হাজারো কোটি টাকা খরচ করে দিনটি উদ্যাপন করা হতো।

তাই জাতির ইতিহাসে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।’

তিনি বলেন, ‘একটি হচ্ছে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ।

আমরা পারিনি তার প্রিয় বিষয়, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে যে কারিগরি শিক্ষার ফেয়ার এবং সেখানে যা করেছি, সেগুলো তার সময়ের অভাবে করতে পারিনি।

আশা করি, তিনি ১৮০ দিনের প্রোগ্রামে এগুলো নিয়ে যাবেন।

বাকি টাকা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করছেন এবং বিভিন্ন রকম সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখছেন।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিগত সরকার এই খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, যেটা সেলিম ভূঁইয়া সাহেব বলেছেন।

ইতোমধ্যে তারা ৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা যে ব্যাংকগুলোতে দিয়েছে, সেই ব্যাংকগুলোর নাম আমি আপনাদের বলছি না।

এ ছাড়াও সরকারি ব্যাংকে আমাদের কিছু টাকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে আমাদের এই ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ যে অনুদান আপনারা দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী যে বন্ড কেনার টাকা দিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে মোট আমাদের ৮৮ হাজার কোটি টাকার বন্ডের সম্পদ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যে শিক্ষকরা জাতি গঠনে সাহায্য করেছেন, তাদের এভাবে বিদায় দেওয়া যায় না।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content