প্রতিনিধি 19 August 2026 , 1:07:56 প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থী হেনস্তা, প্রাধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ রাখা ও মারামারির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার দুপুরে হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতনের নেতৃত্বে সদস্যরা ১৬ আগস্টের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে হল সংসদের নেতাদের সঙ্গে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা যখন ফুটেজ সংগ্রহ করছিলেন, তখন খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন হল সংসদের নেতারা। ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত এসব নেতা দাবি করেন, ওই দিন প্রাধ্যক্ষের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিমকে হেনস্তার ঘটনার ফুটেজের একটি কপি তাঁদের দিতে হবে। ফুটেজ না পাওয়া পর্যন্ত প্রক্টরসহ তদন্ত কমিটির সদস্যদের কার্যালয় থেকে বের হতে বাধা দেন তাঁরা। হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) খন্দকার মো. আবু নাঈম এ সময় অভিযোগ করেন, প্রক্টরিয়াল টিম তদন্তের নামে ফুটেজ গায়েব করার পাঁয়তারা করছে। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, ফুটেজের কপি না দিয়ে এখান থেকে কাউকে যেতে দেওয়া হবে না, এমনকি ফুটেজ নিতে হলে তাঁদের লাশের ওপর দিয়ে যেতে হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশ বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থেই ভিডিও ফুটেজটি কপি করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। কোনো অভিযোগের তদন্ত চলাকালে তা জনসমক্ষে আনা আইনত বা প্রশাসনিকভাবে সম্ভব নয়। দীর্ঘ বাদানুবাদের পর প্রক্টর উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফুটেজটি দেখার সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এরপর তদন্ত কমিটির সদস্যরা ফুটেজ নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার দুপুরে হলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে যান প্রক্টরিয়াল টিম ও তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ফুটেজ সংগ্রহ নিয়ে বাদানুবাদের সময় কেন তালা খোলা হলো বা কেন ফুটেজ নেওয়া হচ্ছে—এমন নানা বিষয়ে হল সংসদের নেতাদের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।
দিনশেষে সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফজলুল হক হলের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, হল সংসদের সদস্য এবং ডাকসুর নেতারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনার পর উপাচার্যের নির্দেশে ফুটেজ-সংবলিত পেনড্রাইভটি শিক্ষার্থীদের সামনেই সিলগালা করে উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন আশ্বস্ত করেছেন যে, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই এই ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে।
সূত্র: প্রথম আলো



















