প্রতিনিধি 27 August 2026 , 9:22:27 প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি আজ তেহরান সফর করছেন। সেখানে তিনি ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যে সংলাপের একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি করা এবং চলমান উত্তেজনার পারদ কমানো।

গত এক সপ্তাহে ইরানকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশ গতি পেয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তেহরান সফর করেছেন এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কাতার আশা করছে, এই ধারাবাহিক আলোচনা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। তবে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো যথেষ্ট পার্থক্য থাকায় তাৎক্ষণিক বড় কোনো সমঝোতার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের বিষয়টি সামনে এসেছে। ওমান ও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সাময়িক নৌ চলাচলের একটি কাঠামো নিয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। বর্তমানে এই সমুদ্রপথটি মাইনমুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে, যা অঞ্চলটির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ইরান অবশ্য স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানের এই মধ্যস্থতাকারী নির্ভর আলোচনাকে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সংলাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তেহরানের ভাষ্যমতে, দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। তবুও কয়েক মাসের সামরিক উত্তেজনার পর এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই আশা করছে, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ সুগম হবে।
সূত্র: গালফ বাংলা



















