প্রতিনিধি 18 September 2026 , 10:48:42 প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা প্রদানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে কোনোভাবেই সেনা মোতায়েন করবে না তাঁর দেশ। এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপে দক্ষিণ কোরিয়া জড়াবে না, যার মাধ্যমে তারা সরাসরি এ যুদ্ধের অংশ হয়ে পড়ে। তিনি জোরালোভাবে বলেন, কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের পরিকল্পনাও তাদের নেই।

তবে সামরিক বাহিনী না পাঠালেও, মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট লি জানান, অপরিশোধিত তেল পরিবহন ও নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশ যে ভূমিকা পালন করছে, সেটির সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ারও কিছু করা প্রয়োজন কি না—তা বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যু দমন অভিযানের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর একটি ইউনিট আগে থেকেই সেখানে মোতায়েন রয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন যথেষ্ট নয় বলে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করা হচ্ছিল। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর বড় আকারের যৌথ মহড়া কমিয়ে আনায় দেশটিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে নানা জল্পনা শোনা যাচ্ছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যদিও এই আলোচনার জন্য অনেকগুলো বিষয়ের সঠিক সমন্বয় জরুরি। লি জানান, ট্রাম্পের আলোচনার আগ্রহকে দক্ষিণ কোরিয়া সমর্থন করে এবং এ দুই দেশের মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরির জন্য তারা কূটনৈতিক সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন, তবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে এখনো কোনো সাড়া মেলেনি।
সূত্র: প্রথম আলো



















