সারাদেশ

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ

  প্রতিনিধি 18 August 2026 , 10:23:38 প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে আসন শূন্য হওয়া–সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা নিয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, রিটটি সরাসরি খারিজ হওয়ায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকল এবং আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে কমিটি গঠিত হয়েছে, তাই বিষয়টি জাতীয় সংসদ দেখবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ আবেদনকারী হয়ে গত ১৩ আগস্ট এই রিটটি দায়ের করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ আগস্ট।

রিট আবেদনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৬ আগস্টের তফসিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ইসির ৬ আগস্টের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রুল হলে বিচারাধীন অবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের ৬ আগস্টের তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয় রিটে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি ওই দল হতে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তবে তাঁর আসন শূন্য হবে।

এর আগেও ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ রিট করেছিলেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিভক্ত আদেশ দেন। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল দিলেও অপর বিচারপতি রিট খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চে পাঠান, যা তৃতীয় বেঞ্চ হিসেবে পরিচিত। ওই বছরের ১৮ মার্চ একক বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে আদেশ দিয়েছিলেন। বর্তমান আদেশের মাধ্যমে আদালত পুনরায় ৭০ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক অবস্থান ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা বহাল রাখলেন।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content