সারাদেশ

সুনামগঞ্জে চুরির অভিযোগ নিয়ে সালিসের পর তরুণের অস্বাভাবিক মৃত্যু

  প্রতিনিধি 29 August 2026 , 10:35:36 প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বেড়াজালী গ্রামে এমরান হোসেন (২৩) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে নিজ বাড়ির বারান্দায় বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। এমরান ওই গ্রামের আবদুল হাসিমের ছেলে। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ সময় তাঁর শার্টের পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে উদ্ধার হওয়া চিরকুটটির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

এমরানের পরিবারের ভাষ্যমতে, প্রায় ১৫ দিন আগে বেড়াজালী বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়ার একটি পানির মোটর ও কিছু বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। চান মিয়ার ছেলে আবুল ফজল এ ঘটনায় এমরান ও একই গ্রামের নিলু মিয়ার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার রাতে বেড়াজালী বাজারে গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আলীর কার্যালয়ে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আবদুল হাসিমের অভিযোগ, সালিসে উপস্থিত সাক্ষীরা চুরির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানালেও চেয়ারম্যান ও চান মিয়া তাঁর ছেলের ওপর দায় চাপান। এ সময় এমরানের মা সাহারা বেগম কথা বলতে চাইলে চেয়ারম্যান তাঁদের হুমকি দেন ও মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সালিসে আগামী সোমবারের মধ্যে চুরি যাওয়া মোটর ফেরত দিতে বলা হয়, অন্যথায় পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আবদুল হাসিম দাবি করেন, সালিসের এই অপমান সহ্য করতে না পেরে এমরান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং রাতেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সালিসে কাউকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, এমরানের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়দের টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল এবং এমরান ঋণগ্রস্ত ছিলেন। আগামী সোমবার ওই পারিবারিক বিরোধ নিয়ে পুনরায় বসার কথা ছিল জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সেদিন মোটর পাওয়া গেলে সেটি নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল, এর বেশি কিছু নয়।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content