সারাদেশ

মালয়েশিয়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস: তিন দিনের সফরে শুরু দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

  প্রতিনিধি 4 August 2026 , 6:20:24 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিন দিনের এক সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় অবতরণ করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) টার্মিনাল ১-এ পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদানের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। তার এই সফর দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে ড. ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাণিজ্যিক বিমানটি অবতরণ করে। বিমানবন্দরের বুংগা রায়া কমপ্লেক্সে তাকে অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল। এরপর রয়্যাল মালয় রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের ২৮ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। ক্যাপ্টেন মোহদ মাসরুর হিদায়াত মাসরির নেতৃত্বে এই সামরিক সম্মান প্রদর্শন করা হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মূলত ২০২৪ সালের অক্টোবরে আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফরের পাল্টা সফর হিসেবে ড. ইউনূস কুয়ালালামপুর গিয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে ড. ইউনূসকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। সেখানে দুই সরকার প্রধানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত গবেষণার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে নোট বিনিময় হবে। বুধবার ড. ইউনূস ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) থেকে সামাজিক ব্যবসায় সম্মানসূচক ডক্টর অব ফিলোসফি ডিগ্রি গ্রহণ করবেন এবং সেখানে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

২০২৪ সালে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত বা ২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.১ শতাংশ বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। মালয়েশিয়া মূলত পেট্রোলিয়াম, পাম তেল ও রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি করে, আর বাংলাদেশ থেকে টেক্সটাইল, জুতা ও প্রস্তুত পণ্য আমদানি করে। ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে গড়ে ওঠা এই মজবুত ভিত্তি ড. ইউনূসের এই সফরের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হবে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উইসমা পুত্রা জানিয়েছে।

তিন দিনের সরকারি সফরে আজ সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) টার্মিনাল ১-এ তার আগমনকে ঘিরে ছিল আনুষ্ঠানিক আয়োজন।

২০২৪ সালে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত (২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৫.১ শতাংশ বেশি।

দেশটির উইসমা পুত্রা জানায়, এই সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা বাড়াবে, যা ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে গড়ে ওঠা মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

উইসমা পুত্রার তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে এই সফরে আসা ড.

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content