প্রতিনিধি 23 August 2026 , 10:15:36 প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯), যারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। শনিবার ভোররাতে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রতিবেশী দেবুর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে এসে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ মাদক সেবন করছিল। বিষয়টি দেখে ফেলায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে একে একে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর বাড়ির আসবাবপত্র তছনছ ও আলমারির ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা থেকে পুলিশের ধারণা এটি ডাকাতির ঘটনা হতে পারে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ
এলাকাবাসী ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, চার বছর আগে মাছুয়াপাড়ায় দোতলা বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন গণপতি চক্রবর্তী। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন এবং এলাকার লোকজনের সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না। গত বৃহস্পতিবার তিনি অবসরের মোটা অংকের টাকা তুলেছিলেন বলে তার এক সহকর্মী জানিয়েছেন। গত তিন দিন ধরে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় শ্যালিকা শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানান। পরে পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
তদন্তের বিষয়ে সিআইডি রংপুরের ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী জানান, বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি মরদেহই পচন ধরা অবস্থায় ছিল। প্রতিটি লাশের গলায় রশি, গামছা কিংবা গেঞ্জি পেঁচানো ছিল। বর্তমানে মেট্রোপলিটন পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি যৌথভাবে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। সিআইডি’র ক্রাইম সিন টিম পুরো ভবনটি ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অধিকতর তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে গতকাল রংপুরে নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের ৪ সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশের ধারণা ছিল, গত ৩ থেকে ৪ দিন আগে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে ওই বাড়িতে ‘ডাকাতির ঘটনা’ ঘটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গণপতির বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল খুবই কম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এলাকার কারও সাথে তার কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেইসঙ্গে ভবনের আনাচে-কানাচে চারদিকে আলামত সংগ্রহ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: মানবজমিন



















