প্রতিনিধি 19 August 2026 , 10:19:34 প্রিন্ট সংস্করণ

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে চলমান উত্তেজনার আঁচ এখন এশিয়ান ফুটবলেও লেগেছে। এই ইস্যুতে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কিউএফএ) আনা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। মূলত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং তার পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে।

কিউএফএ সভাপতি হামাদ বিন খলিফা আল-থানি এএফসি সভাপতিকে লেখা এক চিঠিতে অভিযোগ করেন যে, শেখ সালমান নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আল-থানির দাবি, ইউয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে মিলে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগে এএফসি তার সঙ্গে কিংবা কিউএফের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করেনি। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, এএফসি কোন ভিত্তিতে ৪৭টি সদস্য দেশের হয়ে কথা বলার অধিকার নিজেদের বলে মনে করেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ সালমান অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন।
শেখ সালমান তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, এশিয়ান ফুটবলের মৌলিক গুরুত্বের কোনো বিষয়ে এএফসি ও এশিয়ান ফুটবলের অবস্থান রক্ষায় সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা এবং দায়িত্ব—দুটিই তার রয়েছে। তিনি বলেন, এএফসির গঠনতন্ত্র তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে এবং সংগঠনের সভাপতি হিসেবে এশীয় ফুটবলের স্বার্থ ও মূল্যবোধ রক্ষা করা তার প্রধান কাজ। যে পরিস্থিতির কারণে ওই যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এএফসির নীরব থাকা সেই দায়িত্বের সঙ্গে পুরোপুরি অসঙ্গতিপূর্ণ হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শেখ সালমান আরও বলেন, এর আগেও তিনি এবং এএফসির অন্য সভাপতিরা এশীয় ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য কাতারের প্রতি এএফসির অকুন্ঠ সমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যখন বিশ্বজুড়ে কাতারকে নিয়ে ব্যাপক চাপ ও সমালোচনা চলছিল। তিনি বলেন, সেই সময় প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া কিউএফএর তাৎক্ষণিক স্বার্থের অনুকূলে থাকায় তারা কোনো প্রক্রিয়াগত আপত্তি তোলেননি। অতীতের এসব ঘটনায় কিউএফএ একই ধরনের প্রক্রিয়া মেনে নিয়েছিল এবং তা থেকে সুবিধাও পেয়েছিল। তাই এবার তাদের হঠাৎ ও বেছে বেছে তোলা আপত্তির সঙ্গে আগের অবস্থানের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।
উল্লেখ্য, কাতার ও এএফসির এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের শুরু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর। গত মাসের শেষদিকে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) গঠনের একটি প্রস্তাব দেন ফিফা সভাপতি। এই প্রস্তাবের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল এফএফইর প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা। তীব্র সমালোচনার মুখে এই পরিকল্পনা বাতিল করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো।
গত সপ্তাহে ইউয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়। তিন কনফেডারেশন দাবি করেছিল, ফিফার বাণিজ্যিক ও পরিচালন কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি। তবে এর বিপরীতে কাতার, লেবানন, মরক্কো, সুদান, মিশর এবং মৌরিতানিয়ার জাতীয় ফেডারেশন ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়। এরপরই এএফসির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে চিঠি দেয় কাতার, যা এশিয়ান ফুটবলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সূত্র: গালফ বাংলা



















